শয়তান হযরত মুসা আঃ এর সাথে দেখা করেছিল কিন্তু কেন?

শয়তান প্রধানত দুটি কারণে হযরত মুসা (আঃ)-এর সাথে দেখা করতে এসেছিল:

১. আল্লাহর কাছে তাওবা করার অজুহাত বা ইচ্ছা প্রকাশ
শয়তান মুসা (আঃ)-এর কাছে এসে বলেছিল, “আপনি আল্লাহর এমন এক নবী যার সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেন। আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য একটু সুপারিশ করুন, যেন আল্লাহ আমার তাওবা কবুল করেন।”

হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে দুআ করলে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুসা! আমি তার তাওবা কবুল করতে রাজী আছি, তবে তার জন্য একটি শর্ত রয়েছে। সে যেন হযরত আদম (আঃ)-এর কবরে গিয়ে তাকে একটি সেজদা করে।”

মুসা (আঃ) যখন এই খুশির খবর শয়তানকে জানালেন, তখন অহংকারী শয়তান অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে বলল, “আমি যাকে জীবিত অবস্থায় সেজদা করিনি, তাকে মৃত অবস্থায় কবরে গিয়ে সেজদা করব? এটা কখনোই সম্ভব না!” অর্থাৎ, তার ভেতরের চরম অহংকার তাকে তাওবা করতে দেয়নি।

২. মুসা (আঃ)-কে তিনটি বিশেষ নসীহত (সতর্কবার্তা) দেওয়া
তাওবা না করার পর, শয়তান মুসা (আঃ)-কে বলল, “আপনি যেহেতু আমার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করেছিলেন, তাই তার প্রতিদানস্বরূপ আমি আপনাকে এমন তিনটি গোপন বিষয় বা নসীহত বলে দিচ্ছি, যা আপনাকে এবং আপনার উম্মতকে আমার ফাঁদ থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।”

সেই তিনটি নসীহত ছিল:

তীব্র রাগের সময়: শয়তান বলল, “মানুষ যখন চরম রাগান্বিত হয়, তখন আমি তার অন্তরে ও রক্তে ফুঁক দিতে থাকি। তখন আমি তার খুব কাছাকাছি চলে যাই এবং তাকে দিয়ে অন্যায় করিয়ে ছাড়ি। তাই রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।”

পরনারীর সাথে নির্জনতা: “যখন কোনো পুরুষ কোনো পরনারীর (যার সাথে বিয়ে বৈধ) সাথে নির্জনে একাকী বসে, তখন সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আমি উপস্থিত হই। আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের মাঝে থাকি, যতক্ষণ না তাদের দিয়ে কোনো পাপে লিপ্ত করাতে পারি।”

দান বা সৎকাজের সংকল্প করার সময়: “মানুষ যখনই কোনো ভালো কাজে বা আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ দান করার সংকল্প করে, আমি দ্রুত তার কাছে এসে তাকে দারিদ্র্য ও অভাবের ভয় দেখাতে থাকি এবং তাকে বলি—’দান করলে তুমি নিজে ফকির হয়ে যাবে’। ফলে সে দান করা থেকে বিরত থাকে।”

সংক্ষেপে মূল কথা: শয়তান মূলত নিজের তাওবার জন্য মুসা (আঃ)-কে মাধ্যম বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু নিজের চিরন্তন অহংকারের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। আর যাওয়ার আগে সে মুসা (আঃ)-কে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতার ৩টি গোপন ফাঁদের কথা জানিয়ে দিয়ে যায়।

Ibn al-Jawzi-এর তালবীসে ইবলীস-এ বিভিন্ন দুর্বল বা শিক্ষা-উদ্দেশ্যমূলক বর্ণনা আলোচিত হয়েছে, কিন্তু কোনো কাহিনি কোনো কিতাবে থাকা মানেই তা সহীহ হাদীস নয়।

আপনার বর্ণিত অংশগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:

  • ইবলীসের তাওবার বিষয় — সহীহ হাদীসের নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোতে এমন বর্ণনার শক্ত সনদ পাওয়া যায় না যে আল্লাহ ইবলীসকে আদম (আঃ)-এর কবরে সিজদা করতে বলেছিলেন এবং সে অস্বীকার করেছিল।
  • রাগের সময় শয়তানের প্রভাব — রাগ সম্পর্কে সহীহ হাদীসে সতর্কতা আছে। নবী ﷺ বলেছেন: “রাগ করো না” — বারবার এই নসীহত দিয়েছেন। তবে আপনার উল্লেখিত ঘটনাটির নির্দিষ্ট ভাষা সহীহ সূত্রে প্রতিষ্ঠিত নয়।
  • নারী-পুরুষ নির্জনতা — এটি সহীহ হাদীস দ্বারা সমর্থিত অর্থ। নবী ﷺ বলেছেন, কোনো পুরুষ কোনো (গায়রে মাহরাম) নারীর সঙ্গে নির্জনে থাকলে শয়তান তাদের তৃতীয় হয়।
  • দান করতে গেলে দারিদ্র্যের ভয় দেখানো — এটি Quran-এর অর্থের সঙ্গে মিলে যায়। সূরা আল-বাকারা ২:২৬৮-এ এসেছে: “শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়…”

সুতরাং সারকথা:

এই পুরো ঘটনাকে “সহীহ হাদীস” হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না। তবে এর কিছু শিক্ষা (রাগ নিয়ন্ত্রণ, গুনাহের পরিবেশ এড়ানো, দান করতে ভয় না পাওয়া) ইসলামের সহীহ দলিল দ্বারা সমর্থিত।

Reporter

mamunphf@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *